7টি কৌশলে হ্যাকিং হওয়া থেকে বাঁচার উপায় জেনে নিন!

TechPoth
7 Min Read

আজ আমরা জানবো, 7টি কৌশলে হ্যাকিং হওয়া থেকে বাঁচার উপায়। আমরা প্রায়ই বিভিন্ন সেলিব্রিটি বা বিখ্যাত ব্যক্তিদের প্রফাইলে বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত পোষ্ট দেখি, এটা হতে পারে সে ভাইরাল হওয়ার জন্য দিয়েছে কিন্তু পরবর্তিতে জানা যায় সেই সেলিব্রিটি ঘোষণা করে, “আমি হ্যাক হয়ে গেছি!

যাই হোক ঘটনা সত্য কিংবা মিথ্যা যাই হোক না কেন, আমাদের এই হ্যাক বিষয়টি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হওয়া উচিত। কারন বিষয়টি খুবই মারাত্বক। হ্যাকাররা শুধু তথ্যই চুরি করে না সেই তথ্য দিয়ে বানিজ্য করে, এমনকি আপনার কোন গুরুত্বপূর্ন তথ্য বা ছবি যদি তাদের হাতে পৌছায় তাহলে বুঝবেন আপনার লাইফটি সে হেল করে ছাড়বে। এমনও হতে পারে আপনার ডাটাটি পাবলিকলি অনলাইনে লিক করে দিল।

এখন একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমরা হ্যাক হওয়া এড়াতে কী করতে পারি?

- Advertisement -

আপনি যদি হ্যাকিং এর নতুন শিকার হন, আমাদের সমবেদনা। আপনি হ্যাক হওয়া থেকে বাচতে আমাদের নিচের গাইডলাইনগুলি অনুসরন করুন। সাধারনত, হ্যাক হলে আপনার তথ্য চুরি, ম্যালওয়্যার অ্যাটাক অথবা ‍উইন্ডোজ র‌্যানসমওয়্যার এ্যাটাকের মত সমস্যায় পরতে হয়। নিজেকে নিরাপদ রাখতে এই পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুনঃ

7টি কৌশলে হ্যাকিং হওয়া থেকে বাঁচার উপায়

কৌশল নং – ০১: মোবাইল ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার

Mobile payment system

সাধারনত আমরা ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমটিকে নিরাপদ মনে করি কার্ড ব্যবহারের থেকে। কারন আপনার কার্ডটি কারো কাছে থাকলেই অথবা লুকানো সংখ্যা বা সিভিভি কোড জানা থাকলেই ব্যবহার করতে পারবে। তবে, মোবাইল-ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেমটি অনেক নিরাপদ কারন এর মাধ্যমে পেমেন্ট করলে অটিপি ভ্যারিফিকেশন করতে হয় অন্যথায় পেমেন্ট বাতিল হয়ে যায়।

এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল কিছু পেমেন্ট সিস্টেম আছে যেমন – Apple Pay এবং Google Pay যেটা কিনা ফিজিক্যাল কার্ডের চেয়ে অনেক বেশি সুরক্ষিত। তবে, আমরা যেহেতু এত উন্নত এখনো হতে পারিনি তাই আমরা বাংলাদেশে বিকাশ ও নগদ মোবাইল ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করতে পারি।

কৌশল নং – ০২: পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার

Password Manager

দিন-দিন প্রযুক্তি অনেক শক্তিশালী হচ্ছে এবং এর চাহিদার সাথে সাথে এর অপব্যবহারও দিন-দিন বেড়েই চলেছে। আচ্ছা, আপনার হয়তবা অনলাইনে সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট আছে, এবং অনলাইনে কেনা-কাটা করেন। এছাড়াও, অনেক সময় বিভিন্ন সাইট ব্যবহারের জন্য একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করেন।

তাহলে আমি, আপনাকে একটি প্রশ্ন করি – আচ্ছা! আপনি কি প্রতিটি একাউন্ট এর পাসওয়ার্ড একই রাখেন?

- Advertisement -

আমি বলবো, উপরের এই প্রশ্নের প্রায় ৮০% উত্তর হবে, হ্যা একই পাসওয়ার্ড রাখি। এখানেই আমরা আমাদের প্রধান ভুলটি করে থাকি। এজন্য আপনার জন্য আমাদের পরামর্শ, আজই একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ডাউনলোড করুন। এবং প্রতিটি একাউন্ট এর জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। এর ফলে আপনার হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬০% কমে যাবে।

পড়ুনঃ

কৌশল নং – ০৩: অ্যাকাউন্টগুলিতে মাল্টি-ফ্যাক্টর চালু করুন

Multi Factor Security

আপনার অনলাইনের প্রতিটি একাউন্টকে মাল্টি-ফ্যাক্টর এর আওতায় আনুন। মাল্টি-ফ্যাক্টর সিস্টেমের মাধ্যমে আপনার একাউন্টের নিরাপত্তা অনেকগুনে বেড়ে যায়।

মাল্টি-ফ্যাক্টর বলতে অনলাইনের সাথে অফলাইন যুক্ত, যেমন- মনে করুন আপনি একটি জিমেইল একাউন্ট লগিন করবেন। আপনার কাছে লগিন ইউজার ও পাসওয়ার্ড আছে। কিন্তু একাউন্টিতে যদি মাল্টি-ফ্যাক্টর অন করা থাকে, তাহলে আপনার লগিন করতে ভেরিফিকেশন কোড লাগবে যেটা লগিন করার সাথে সাথে একাউন্টধীরির যোগাযোগ নাম্বারে চলে যাবে।

এখন, প্রায় সকল একাউন্টেই টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা মাল্টি-ফ্যাক্টর সিস্টেম পাওয়া যায়।

কৌশল নং – ০৪: ফিশিংয়ের ফাদে পড়বেন না

Phishing Attacks Security

ফিশিং অ্যাটাক খুবই কমন একটি হ্যাকিং ফাদ। এই ফাদে আমরা প্রায়ই অনেকে পরে যায় কিন্তু আপনার যদি কিছু কৌশল পূর্বে থেকেই জানা থাকে তাহলে আপনি এই ফাদে আর কখনো পরবেন না। ফিশিং এ্যাটাক এর মাধ্যমে আপনার গুরুত্বপূর্ন তথ্য, কম্পিউটার ডিভাইস, অনলাইন একাউন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

- Advertisement -

ফিশিং অ্যাটাক মূলত কোন মেইল, এসএমএস, বা মিরর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘটতে পারে। বিস্তারিত জানতে আমাদের সাইটের সাথেই থাকুন। মিরর ওয়েবসাইট কি এবং কিভাবে কাজ করে এর উপর আমরা আলাদা একটি পোষ্ট লিখবো আপনাদের জন্য। এছাড়াও আপনি যদি গুগল ক্রম ব্যবহার করেন তাহলে প্রায়ই দেখবেন কিছু সাইট ভিজিট করলে ব্রাউজার থেকেই ওয়ার্নিং দেয়, সেই সকল সাইট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

কৌশল নং – ০৫: অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন

Antivirus Security

অ্যান্টি ভাইরাসের কাজ হল হ্যাকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সিস্টেম গড়ে তোলা। এখন অনলাইনে পেইড টুলসের সাথে সাথে ফ্রিও অনেক অ্যান্টি-ভাইরাস পাবেন। এর মাধ্যমে আপনি আপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। তবে, পেইড টুলস তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সুরক্ষা দিবে।

আর ফিশিং থেকে বাচতে সবসময় মেইল ও এসএমএস বুঝে শুনে ক্লিক করবেন। কারন আপনার শুধুমাত্র একটি ক্লিকেই আপনার একাউন্টের সম্পূর্ন তথ্য হ্যাকারের হাতে চলে যাবে।

- Advertisement -

কৌশল নং – ০৬: ওয়াই-ফাই বন্ধ করে রাখুন

Wifi Security

আমরা প্রায়ই সকলে মোবাইল বা ডিভাইসে ওয়াই-ফাই অন করে রাখি। এটাই আমাদের আরেকটি বড় ভুল। ডিভাইসে ওয়াই-ফাই অন করে রাখলে হ্যাকাররা আপনার আইপি ট্রেস করতে পারে এবং ধীরে ধীরে আপনার সাথে কানেক্ট হওয়ার চেষ্টা চালাতে থাকে। এজন্য হ্যাকিং হওয়া থেকে বাচার উপায় মাঝে মধ্যে ইন্টারনেট অফ করে দেওয়া।

সম্ভব হলে, আপনি যখন ঘুমাতে যান তখন আপনার ঘরের ওয়াই-ফাই রাউটারটিও বন্ধ করে রাখুন। হ্যাকাররা সাধারনত বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়ে ইউজারদের এ্যাক্টিভিটি মনিটরিং করতে থাকে। এবং একসময় তার মেইলে অরিজিনাল মেইলের মতো করে মেইল সেন্ড করে। এবং সেই মেইলে কিছু আকর্ষনীয় লিংক থাকে যার উপর ক্লিক করলেই আপনার একাউন্ট শেষ.. আপনার একাউন্ট ইনফরমেশন তার কাছে চলে যাবে মূহুর্তের মধ্যে।

কৌশল নং – ০৭: সোশ্যাল মিডিয়াতে ওভারশেয়ারিং বন্ধ করুন

Social Media Over sharing Security

সোশ্যাল মিডিয়াতে ওভারশেয়ারিং করা ঠিক নয় এর মানে আপনার পারসোনাল তথ্য এবং লাইফস্টাইল সবকিছু অনলাইনে প্রকাশ না করা। এজন্য আপনার প্রতিটি পোষ্ট করার সময় চিন্তা করতে হবে যে এটা পরবর্তীতে যেন আমার জন্য হুমকি না হয়ে যায়। এজন্য আপনার প্রফাইল লক করে রাখতে পারেন।

এছাড়াও আরো কিছু কৌশল জানতে নিচের দেওয়া লিংকে ক্লিক করুনঃ হ্যাকার থেকে নিরাপদ থাকুন

পরিশেষে, আমরা উপরের আলোচনা থেকে এটুকু বুঝতে পারি যে আপনাকে অনলাইনে নিরাপদ থাকতে হলে অবশ্যই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এবং সবথেকে বড় যে ঘটনাটি সেটা হল পাওয়ার্ডের ব্যবহার। আজ থেকেই পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন এবং একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

- Advertisement -
Share This Article
Follow:
টেকপথ একটি জনপ্রিয় প্রযুক্তিগত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। যার মাধ্যমে আপনি শিখতে পারবেন ফ্রিল্যান্সিং, ইউটিউবিং, সফটওয়্যার সিকিউরিটি, গ্যাজেট তথ্য, টেক ট্রাবলশুটিং ইত্যাদি ।
Leave a comment

Leave a Reply